চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনলোজির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলো বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। এই চুক্তির মাধ্যমে কৃষি, ব্যবসা, শিল্প খাতে অগ্রসরমান প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রকৌশল জ্ঞান প্রয়োগ, সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও ব্যবস্থপনার বৈশ্বিক জ্ঞান বিনিময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে ব্যাংকক ভিত্তিক এই শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।
আইসিটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এনএম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরামর্শক তামজিদ বিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন,আমাদের ভিশনারি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দিক নির্দেশনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক আর্থাসামাজিক সূচকে অভাবনীয় অগ্রগতির মাধ্যমে। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ্য উত্তীর্ণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। আশাকরা যায়, ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হতে চলেছে। বিশ্বের ৪১তম অর্থনৈতিক শক্তিধর দেশ হতে পেরেছে। ডিজিটাল ফাইন্যান্সে বাংলাদেশ এরইমধ্যে বিশ্বে রোল মডেল হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আমরা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছি। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে, আমাদের দূরদর্শী উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৩৬ সালের মধ্যে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে। ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, আমরা বিশ্বের ৪১তম বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তির দেশ হয়ে উঠেছি। কোভিড ১৯ সংকটের সময় ডিজিটাল প্রস্তুতির সুফল পেয়েছি। এই সময়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ডিজিটালি ‘বুম’ করেছে। ই-কমার্স বাজার ২০১০ সালের তুলনায় ৬২৪ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই বাজার উন্নীত হয়েছে ৩.১ বিলিয়ন ডলারে। আশাকরা যায়, ২০২৫ সালে আরও ৮০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করবে ই-কমার্স খাত। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ডিজিটাল ফাইন্যান্সের বিশ্বে একটি রোল মডেল হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল ফাইন্যান্সের এই বাজারটি তার সূচনা থেকে আক্ষরিক অর্থে ৫০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
পলক আরো বলেন, “দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে, জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী অর্থনীতির জন্য দক্ষতা তৈরি করার কৌশল আমাদের রয়েছে। তবে আমরা ক্রমাগত পরিবর্তিত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করছি। আমাদের উচ্চ পর্যায়ের গবেষকদের প্রয়োজন যারা উদ্ভাবনের মাধ্যমে গেমচেঞ্জার হয়ে উঠবে যা দেশ ও এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরো অবদান রাখতে সক্ষম হবে ।”

চুক্তির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি কিভাবে এআইটি দক্ষ মানবসম্পদ প্রদানের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে। আমি আশা করি, এই সমঝোতা স্মারকটি প্রকৃতপক্ষে একটি অধিক কার্যকর, বুদ্ধিমান, স্মার্ট, সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম তৈরিতে অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে যা স্মার্ট বাংলাদেশ লক্ষ্য পূরণে চালিত করবে। এই সমঝোতা স্মারকটি পেশাদার উন্নয়ন কর্মসূচীর মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতা ও মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আন্তঃ সহযোগিতার পথ তৈরি করবে। শিক্ষার্থী বিনিময় এবং বিভিন্ন লেবেলে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সপোনেনশিয়াল লার্নিং এবং এই অঞ্চলের পরিপূরক প্রযুক্তি সরবরাহ ও চাহিদা বিকাশের জন্য গবেষণা ও উদ্ভাবন সহযোগিতা জোরদার করবে”।
“আমি আত্মবিশ্বাসী যে এই এমওইউ এবং এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। আমরা প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা এবং বিকাশের সুযোগগুলিও অন্বেষণ করতে পারি, তরুণদের জন্য প্রযুক্তিগত ফেলোশিপ প্রোগ্রাম, সরকারী কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের উদীয়মান প্রযুক্তিতে দক্ষতা বাড়িয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব জয়ে ভূমিকা রাখবে”- যোগ করেন পলক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনলোজির প্রেসিডেন্ট ড. ইডেন ওয়াই উন এবং আরো সংযুক্ত ছিলেন এআইটি পরিচালক শন ক্যালি ও ইন্দিরা কুমারি।
চুক্তি নিয়ে মি. উন বলেন, পোস্ট গ্রাজ্যুয়েট ডিগ্রি চালু, সেমিনার, ওয়ার্কশপ করার মাধ্যমে প্রযুক্তির শক্তিতে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই চুক্তি দীর্ঘ যাত্রার শুরু মাত্র। আমি যখন কোভিডের আগে ঢাকায় গিয়েছিলাম তখন বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে অভিভূত হয়েছি। তখন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আমার সঙ্গে ২০৪১ সালের রূপকল্প তুলে ধরেছিলেন। বৈঠকে আমরা ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকদের ওই সময়ের জন্য উদ্ভবনী মেধার স্ফূরণ ঘটাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সঙ্গে কাজ করবো।
স্বাগত বক্তব্যে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই চুক্তি আমাদের দেশের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার খাতে আন্ডার গ্রাজ্যুয়েট তরুণরা উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যোগ্য ও দক্ষ কর্মী হয়ে উঠবেন। এতে বাংলাদেশে ডিজিটাল বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় উঠবে।